ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে: মেয়র আতিক

জাতীয় বিশেষ প্রতিবেদন মহানগর রাজনীতি লিড নিউজ সমগ্র বাংলা স্বাস্থ্য

আলিফ হাসান, (স্টাফ রিপোর্টার)

‘শুধু সিটি কর্পোরেশন একা নয় বরং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবার সচেতনতা প্রয়োজন। আমরা নিজেরাই এডিসের লার্ভার প্রজননক্ষেত্র তৈরি করি। সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সবাই সচেতন না হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। যদিও জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতায় গত বছরের তুলনায় এবছর আমরা ডেঙ্গুকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছি। আমরা চাই ডেঙ্গুকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে। সেজন্য জনগণের সহযোগিতা চাই।’

শনিবার (০৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর মধুবাগ এলাকায় ‘সকাল দশটায় দশ মিনিট প্রতি শনিবার, নিজ নিজ আঙিনা ও বাসা-বাড়ি করি পরিষ্কার, এই হোক আমাদের অঙ্গিকার।’ স্লোগানে ডেঙ্গু বিরোধী সচেতনতামূলক প্রচারাভিযানে এসে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

প্রচারাভিযানে ডিএনসিসি মেয়র মধুবাগ এলাকায় বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে ঘুরে জনসাধারণকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন এবং নিজে মাইকিং করে সচেতন করেন। ডিএনসিসি মেয়র মধুবাগের শের-ই-বাংলা স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলেন। ট্রাকে উঠে এডিস মশার উৎসস্থল-গাড়ীর পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, মাটির পাত্র, খাবারের প্যাকেট, অব্যবহৃত কমোড এগুলো দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করেন তিনি।

এসময় শিক্ষার্থীরা মেয়রের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রতি শনিবার সকালে দশটায় দশ মিনিট বাসা-বাড়ি পরিষ্কার করার অঙ্গিকার করে। শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, ‘আপনারা শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন করে তুলবেন। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাইকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। তিন দিনে একদিন জমা পানি ফেলে দিতে হবে। জমে থাকা পরিষ্কার পানিতেই এডিসের লার্ভা জন্মায়।’

ডিএনসিসি আওতাধীন এলাকায় এডিস মশার উৎস খুঁজতে ড্রোনের মাধ্যমে ১লক্ষ ২৮হাজার বাড়ির ছাদ পরিদর্শন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ডেঙ্গু বিরোধী সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শেষে মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কামাল কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠেয় ডিএনসিসিতে অনলাইনে কর পরিশোধ বিষয়ক সচেতনতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

প্রচারাভিযানে অন্যান্যের সাথে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেঃ জেনাঃ মোঃ জোবায়দুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহঃ আমিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এস এম শরিফ-উল ইসলাম, সচিব মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল হামিদ মিয়া, অঞ্চল-৩ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল বাকী, ৩৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৈমুর রেজা খোকন এবং সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর মিতু আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।