বেগম জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: খসরু

Featured রাজনীতি লিড নিউজ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমরা রাস্তায় নেমেছি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে। মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

শনিবার আজ (৮ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বটতলী বাজারে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আলোচনা শুরু করেছে। কিসের আলোচনা? যারা ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে ভোট চুরি করেছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে যে সংলাপ করছেন এটি একটি প্রহসনের সংলাপ। যারা দফায়-দফায় ভোট চুরি করে সে ভোট চোরেরা আগামী নির্বাচনে আবারও কীভাবে ভোট চুরি করবে সেই প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই চোরদের সঙ্গে আরও কিছু ছেঁচড়া চোর যুক্ত হয়েছে। যারা অন্যের কাঁধে ভর করে চুরি করে। এদের কোনো গুরুত্ব নাই। এদের কোনো সমর্থন নেই। এরা বাংলাদেশের একটি আসনও পাবে না। তারা পরগাছা বলে মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশের মানুষ এখন নিবিড়ভাবে ভোট চোরদের পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ তারা বাংলাদেশের মানুষের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের ভোট কেড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় তারা জড়িত। বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার সঙ্গে তারা জড়িত। সেই চোর ও ছেঁচড়া চোরদের বলতে চাই সেই পথ থেকে সরে আসুন। বাংলাদেশ জেগে উঠেছে। কথায় আছে চোরের দশদিন গৃহস্থের একদিন। চোরের দশদিন শেষ হয়ে গেছে। যেখানে চোর দেখবেন সেখানে বলতে হবে আগে যেমন বলা হতো তুই রাজাকার। এখন মানুষ বলবে তুই ভোটচোর। এদের সামাজিকভাবে বয়কট করার আহবান জানান তিনি।

এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা রাস্তায় নেমেছি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে। মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এ আন্দোলন তীব্র থেকে আরও তীব্রতর হবে। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে ছাড়ব। উনাকে চিকিৎসা দিয়ে আবারও সুস্থ করে দেশের সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালনে উনি ফিরে আসবেন।

জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাফিজুর রহমান মোল্লা কচির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়াপারপার্সনের উপদেষ্টা সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান ও আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল প্রমুখ।

এর আগে বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে শনিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরের পর থেকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বটতলী বাজারের বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে জড়ো হতে থাকেন। বিকেল ৪টার দিকে সমাবেশস্থল কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এর আগে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পশ্চিম পাড়া এলাকায় ঝটিকা মিছিল বের করেন। ঝটিকা মিছিলে নেতৃত্ব দেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক সমীর চক্রবর্তী। এসময় মিছিলে জেলা ছাত্রদলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

এদিকে, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল রেজা জানান, পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ৪৮টি পয়েন্টে অন্তত পাঁচ শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।