মুরাদের বিরুদ্ধে বউ পেটানোর অভিযোগ তদন্তে যা করবে পুলিশ

জাতীয় মহানগর রাজনীতি লিড নিউজ সমগ্র বাংলা

ঢাকাই সিনেমার একাধিক নায়িকাকে জড়িয়ে অশ্লীল বিতর্কের জেরে ‘প্রতিমন্ত্রীর’ পদ হারিয়েছিলেন ডা. মুরাদ হাসান। তবে টিকে রয়েছে তার সংসদ সদস্য (এমপি) পদ। আগে থেকেই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ছাড়াও তার বিরুদ্ধে ছিল একের পর এক অভিযোগ।

এবার অভিযোগ পাওয়া গেল- তিনি তার বাসায়ও নিজ পরিবারের সদস্যদের শান্তিতে থাকতে দেন না। খোদ তার স্ত্রী ডা. জাহানারা এহসান এবার গালাগাল ও মারধর করার জন্য উদ্ধত হওয়ার কথা উল্লেখ করে জিডি কপিতে অভিযোগ করেন। এর আগে তিনি জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯-এ কল দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্ত্রী জাহানারা সাহায্য চাওয়ায় পুলিশ ধানমন্ডিতে তার বাসায়ও গিয়েছিল, তবে সেখানে তারা মুরাদকে পায়নি।

এরপরই ধানমন্ডি থানায় দাখিল করা জিডি কপিতে বাদী জাহানারা এহসান অভিযোগ করেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে তিনি (ডা. মুরাদ) কারণে অকারণে আমাকে এবং সন্তানদের অকথ্য ভাষায় গালাগালসহ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করিয়া আসিতেছে এবং হত্যার হুমকি প্রদান করিয়া আসিতেছে।

০৬/০১/২০২২ তারিখ সময় অনুমান ০২:৪৫ ঘটিকার দিকে পূর্বের ন্যায় আমাকে এবং আমার সন্তানদের গালাগাল করে এবং মারধর করার জন্য উদ্ধত হইলে আমি ৯৯৯-এ কল করিলে ধানমন্ডি থানা পুলিশ বাসার ঠিকানায় পৌঁছালে বিবাদী বাসা হইতে বাহির হইয়া যায়। আমি এমতাবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায় আছি। বিবাদী আমাকে এবং আমার সন্তানদের যেকোনো সময়ে ক্ষতি সাধন করিতে পারে।’

জিডিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘বিবাদী মুরাদের সঙ্গে তিনি ১৯ বছর ধরে সংসার করে আসছেন। তাদের সংসাদের রামিসা ফারিহা রাজকন্যা নামের ১৬ বছর বয়সী একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। এ ছাড়াও হাসান আবরার মাহির যুবরাজ নামের ১১ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তানও রয়েছে।’এই দুই সন্তানকেও সংসদ সদস্য (এমপি) ডা. মুরাদ হাসান নির্যাতন করে আসছিলেন বলে ওই জিডি কপিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এ বিষয়ে ধানমন্ডি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া আরটিভি নিউজকে বলেন, ‘মুরাদ হাসানের স্ত্রী আজ বিকেল ৩টার দিকে ৯৯৯-এ কল করে নির্যাতনের অভিযোগ করেন।’কার বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করেছেন, জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘তার হাসব্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। এটা ডমেস্টিক ভায়োলেন্স। আমরা বিষয়টা দেখছি।’

একই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ধানমণ্ডির ১৫ নম্বর সড়কে ওই বাসায় গিয়েছিল, তবে সেখানে মুরাদ হাসানকে তারা পাননি। মুরাদ হাসানের স্ত্রীও একজন চিকিৎসক। অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে তা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে মুরাদের ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। এক চিত্রনায়িকাকে টেলিফোনে হুমকি আর অশালীন বক্তব্যের ভিডিও ফাঁস হলে গত ডিসেম্বরে প্রতিমন্ত্রীর পদ হারাতে হয় মুরাদ হাসানকে।

জামালপুর আওয়ামী লীগের পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয় স্থানীয় এই এমপিকে। নানান নাটকীয়তার মধ্যে ৯ ডিসেম্বর রাতে কানাডার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন মুরাদ। কিন্তু কানাডায় কিংবা আরব আমিরাতে ঢুকতে না পেরে দুদিন পর তাকে ফের দেশে ফিরতে হয়। এরপর থেকে তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন।