এবারের খেলা মিরপুরে নয়, অ্যাগার

খেলাধুলা লিড নিউজ

স্পোর্টস ডেস্ক

এই তো ঠিক তিন মাস আগের কথা। স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চের মতো তারকাদের ছাড়াই বাংলাদেশে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া। হয়তো স্বাগতিকদের খুব একটা পাত্তা দেয়নি তারা! কিন্তু বাংলাদেশ ছিল প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম প্রস্তুতি ভালোভাবে নিতে চেয়েছিল তারা। এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, ৩ আগস্ট ২৩ রানে জিতে প্রথমবার টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারায় বাংলাদেশ।

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররাও বাংলাদেশের বোলারদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন, বিশেষ করে মোস্তাফিজকে মোকাবিলার পথ খুঁজতেই বেগ পেতে হয়েছে তাদের। অ্যাস্টন অ্যাগার তো বলেই দিয়েছিলেন, ‘মোস্তাফিজ ডিফিকাল্ট কাস্টমার’।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই দলের দেখা হচ্ছে আরেকবার, সুপার টুয়েলভে। এই তিন মাসে বদলে গেছে অনেক কিছু। বাংলাদেশ নিউ জিল্যান্ডকে ৩-২ ব্যবধানে ঘরের মাঠে সিরিজ হারিয়ে আশায় বুক বেঁধে বিশ্বকাপে পা রেখেছিল। কিন্তু স্কটল্যান্ডের কাছে হেরে বড় ধাক্কা খায়। তারপর ওমান ও পাপুয়া নিউ গিনিকে হারিয়ে মূল পর্বে উঠেছে। সেখানে পাত্তাই পায়নি তারা শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা বিপক্ষে টানা জয়ের পর হেরেছে কেবল ইংল্যান্ডের কাছে। আর এই দলে আছেন স্মিথ, ওয়ার্নার, ফিঞ্চ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও মিচেল স্টার্কের মতো তারকারা।

ওই সফরে নেতৃত্ব দিয়ে দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে ফেরা ম্যাথু ওয়েড আছেন এবারের বিশ্বকাপে। এছাড়া অ্যাগার, অ্যাডাম জাম্পা ও জশ হ্যাজেলউডও খেলছেন। তারা নিশ্চয় প্রতিশোধ নিতে চাইবেন। অন্যদিকে ওই সিরিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শেষ ম্যাচে জয় নিয়ে মাথা উঁচু করে ফিরতে চাইবে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার দুবাইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। অ্যাগার মনে করিয়ে দিলেন সেটাই।

ম্যাচের আগের দিনের সংবাদ সম্মেলনে অ্যাগার ওই সিরিজ নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হন। এই ম্যাচে মোস্তাফিজকে হুমকি মনে করছেন কি না এবং বাংলাদেশের স্পিনারদের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা কী, জানতে চাইলে তার উত্তর, ‘আমি মনে করি মোস্তাফিজকে মোকাবিলা করা খুব কঠিন হওয়ার পেছনে কন্ডিশন বড় ভূমিকা রেখেছিল। অফ স্পিনিং স্লোয়ার বলে সে পরিমাণ বল ঘুরাতে পারছিল, সেটা ছিল অসাধারণ। কিন্তু সেটা হচ্ছিল সে যে পিচে বল করছিল, সেটার কারণে এবং স্পিনারদের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার।’

বল হাতে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে অ্যাগার বললেন, ‘জাম্পা ও আমি দুজনেই ওই উইকেটগুলোতে বোলিং উপভোগ করেছিলাম। আমি মনে করি কোনো ব্যাটসম্যান সেখানে ব্যাট করা উপভোগ করছিল, এমনকি বাংলাদেশিরাও। কয়েকবার বোর্ডে ১২০ বা তার বেশি রান তৈরি করেছিল, কিন্তু এমন ক্রিকেট প্রায় সময় খেলতে দেখে না কেউ।’ এবারের খেলা যে অন্য কন্ডিশনে তা মনে করিয়ে দিলেন অজি স্পিনার, ‘ওই কন্ডিশন এখানে নেই বলে মনে হচ্ছে। পাল্টে গেছে। বাংলাদেশে যেমনটা দেখেছি, আমার সন্দেহ আছে ততটা স্পিনবান্ধব উইকেট এটা কি না।’

মন্থর, নিচু আর টার্নিং উইকেটে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। এবার কি পূর্ণ শক্তির অস্ট্রেলিয়ার কাছে একই পরিস্থিতির শিকার হবে বাংলাদেশ? অ্যাগার বললেন, ‘একেবারে আলাদা কন্ডিশন। বাংলাদেশের মতো ওই কন্ডিশনে আমাদের অনেকে সম্ভবত প্রথমবার খেলেছিল। আমরা বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলাম, সত্যি কথা বলতে ওই কন্ডিশনে বাংলাদেশ অসাধারণ খেলেছিল। তারা ঘরের মাঠে ভালো খেলেছে এটা আমাদের কাছে আশ্চর্যের কিছু নয়, কিন্তু এখন ভিন্ন ব্যাপার।

আমাদের দল এখন আলাদা এবং উইকেট বাংলাদেশের মতো আচরণ করছে না। আমরা দেখব কী হয়। আমাদের জিততে হবে এবং জেতার জন্যই ছেলেরা খেলবে। এটা হবে দারুণ ম্যাচ।’