1. admin@cbctvbd.com : admin :
  2. cbctvbd@gmail.com : cbc tv : cbc tv
বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৩৫ অপরাহ্ন

টঙ্গীতে ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে এখন কোটিপতি মাদক ব্যবসায়ী

ফখরুল ইসলাম ফাহিম টঙ্গী গাজীপুর প্রতিনিধি:-
  • Update Time : সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২১

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করছেন টঙ্গী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম। এক সময় বিক্রি করতেন বাসের টিকেট। মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে এখন তিনি জমি, গাড়ি ও বাড়ির মালিক হয়েছেন। জড়িত আছেন ফুটপাত ও ঝুট মালের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির সঙ্গে। কক্সবাজার ও টেকনাফের বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। বর্তমানে টঙ্গীর কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করে আসছেন। পুলিশের সঙ্গেও রয়েছে তার বেশ সখ্যতা।

রেজাউল করিম গাজীপুরের টঙ্গীর হিমারদিঘী নোয়াগাও এলাকার হোসেন আলীর ছেলে (৩২)। তিনি টঙ্গী কলেজ শাখা ছাত্ররীগের সাধারন সম্পাদক।

সম্প্রতি টঙ্গীর মরকুন এলাকার মাদক ব্যবসায়ী সাইদা বেগমের সঙ্গে ফোনালাপ প্রকাশ পাওয়ায় তার কথোপোকথন থেকে রেজাউলের মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। রেজাউল করিম ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিরও সহসম্পাদক। টঙ্গী এলাকায় ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এখন ওই ছাত্রলীগ নেতার হাতেই। মাদক ছাড়াও ঝুট ব্যবসা, ফুটপাতের হকারসহ হাট বাজারে চাঁদাবাজিতেও সে জড়িত।

টঙ্গীর হিমারদিঘী এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল করিম এক সময় পড়ালেখার পাশাপাশি টঙ্গী এলাকায় বাসের টিকিট বিক্রেতা হিসেবে কাজ করতেন। পরে মাঠপর্যায়ের খুচরা মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে যান। বিক্রি করতেন ফেনসিডিল। গাজীপুরের আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সঙ্গতা সৃষ্টি করে টঙ্গী সরকারি কলেজের সাধারণ সম্পাদকের পদ নেন। সাধারন সম্পাদক হওয়ার পর থেকে তার মাদক ব্যবসা জমজমাট হতে শুরু করে। খুচরা মাদক বিক্রেতা থেকে এখন সে টঙ্গী এলাকার ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রন করেন।
এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টঙ্গী ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল করিমের পিতা ঝিনাইদহ থেকে দীর্ঘদিন আগে টঙ্গীতে এসে সপরিবারে বসবাস শুরু করেন। তখন তার পিতা হোসেন আলী টঙ্গী রেল ষ্টেশনের পাশে কাপড় সিলাইয়ের কাজ করতেন। রেজাউলের দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট। রেজাউল পূবাইল আদর্শ কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করেন। পূবাইল কলেজে লেখাপড়া করা অবস্থায় অভাবের সংসারে হালতে সে লেখাপড়ার পাশাপাশি চলবিল পরিবহনের বাসের টিকেট বিক্রি শুরু করেন। সেই আয়দিয়ে তার লেখাপড়ার খরচ মিটাতেন। ২০০৭ সালে টঙ্গী সরকারি কলেজে ডিগ্রীতে ভর্তি হন। ওইসময় টঙ্গী সরকারি ডিগ্রী কলেজের ছাত্রদলের নেতা সেলিমের মাধ্যমে সেখানে ভর্তি হন তিনি।
রেজাউলের রাজনীতিতে আসাঃ সাবেক টঙ্গী থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সফি আহমেদের হাত ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করেন রেজাউল। রাজনীতিতে এসেই শুরু করেন ফেন্সিডিল ব্যবসা। ওই সময় তিনি বড় মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগি হিসাবে কাজ করতেন। তার বিরুদ্ধে সাবেক টঙ্গী মডেল থানায় ফেন্সিডিল ব্যবসার অপরাধে মামলাও হয়েছে। ফেন্সিডিল ব্যবসা করে কিছু আয় রোজগার ভালো হওয়ায় রাজনীতিতে টাকা পয়সা খরচ করা শুরু করে। টঙ্গী কলেজে ভর্তি হওয়ার পর ২০১৬ সালে টঙ্গী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেন। পদ পেতেও তাকে বেশ টাকাপয়সা খরচ করতে হয়েছে। পাঁচ বছর আগে টঙ্গী পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের নার্স মেহেরুন আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। ছাত্রত্ব নেই প্রায় ৫-৬ বছর হয়েছে। তবু এখনও সে ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।
কলেজ শাখা ছাত্রলীগের পদ পাওয়ার পর তাকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি। প্রথম তিনি উত্তরার নর্থটাওয়ারের কিছু কাপড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার সম্পার্ক হয়। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে ভারত থেকে সেসব চোরাই জামাকাপড় আসতো সেগুলি নামিয়ে দেয়া হতো টঙ্গীর বনমালা রেল গেইট এলাকায়। এখান থেকে রেজাউল তার নিজ দায়িত্বে টঙ্গী থানা পুলিশ ম্যানেজ করে পৌছে দিতো তাদের মার্কেটে। এর জন্য সে মোটা অংকের টাকা পেতেন তিনি।
উত্তরা নর্থটাওয়ারে এক ব্যবসায়ী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, আগে প্রতি সপ্তাহে দুইটি করে চালান বনমালা ষ্টেশনে আসতো। প্রতিটি চালানের জন্য রেজাউলকে ৫০ হাজার করে টাকা দিতেন মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ীরা।

ইয়াবা ব্যবসা ঃ টঙ্গীর এরশাদ নগর, ব্যাংকের মাঠ বস্তি ও কেরানীর টেকসহ বেশ কিছু এলাকা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দখলে। ২০১৬ সালে রেজাউল ছাত্রলীগের পদ পাওয়ার পর ফেন্সিডিল ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে শুরু করেন ইয়াবা ব্যবসা। টেকনাফ ও কক্সবাজার থেকে নিজের পরিচয় দিয়ে ও নিজের গাড়ি দিয়েও সে ইয়াবা নিয়ে এসে টঙ্গীসহ গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার খুচরা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতেন। ইয়াবা ব্যবসা করে মাত্র চার বছরে চলে গেছেন কোটিপতি বনে। ভাড়া বাসা ছেড়ে উঠেছেন কোটি টাকা মূল্যের নিজের বহুতল ভবনে। ইয়াবা ব্যবসা করে দত্তপাড়া হাফিজউদ্দিন সরকার রোডে চার কাঠার একটি প্রতি। সেখানে প্রতি কাঠা জমির মূল্য ৩৫ লাখ টাকা। এছাড়া দত্তপাড়া সাইদ মৃধা রোডে রয়েছে তিন কাঠার একটি প্লট। সেখানে একটি আধাপাকা বাড়িও রয়েছে। টঙ্গী পশ্চিম থানা রোডে আছে জমি দখল করার ঘটনাও। ইয়াবা ব্যবসা করে কোটি টাকা মূল্যে দুই বড় যাত্রীবাহি বাসও ক্রয় করেছেন।

চাঁদাবাজি ঃ টঙ্গীর নিপ্পন গার্মেন্টেসে ঝুট ব্যবসা করেন সাজ্জাদুল ইসলাম। তিনি গত ১ এপ্রিল কারখানা থেকে মালামাল বের করতে গেলে তাকে বাধা সৃষ্টি করেন রেজাউল ও তার সহযোগিরা। এসময়ে ওই ব্যবসায়ীর কাছে রেজাউল ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং ভয়ভীতি ও প্রাণ নামের হুককি দেয়। ওই ঘটনায় ব্যবসায়ীর স্ত্রী শিল্পি আক্তার বাদি হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। আরো বেশ কয়েকটি কারখানায় চাঁদাবাজির ঘটনা আছে। অনেকেই ভয়ে থানায় যেতে পারে না। এছাড়া টঙ্গী কলেজ গেইট এলাকায় রাস্তার পাশ দিয়ে দুই শাতাধীক দোকান বসিয়ে সেগুলি থেকে তার লোকজন দিয়ে প্রতিদিন চাঁদা উঠাচ্ছে।

মাদক যে ভাবে প্রকাশ্যে আসেঃ গাজীপুরের টঙ্গীর ব্যাংকের মাঠ বস্তি ও কেরানীর টেক বস্তি এলাকার মাদক ব্যবসার অন্যতম হোতা সাঈদা বেগম ইয়াবাসহ ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাকে ঘিরেই রেজাউলের সঙ্গে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। কারণ কক্সবাজার থেকে আনা রেজাউলের এক লাখ ইয়াবা বেহাত হওয়ার জন্য সাঈদাকেই দায়ী করেন এ ছাত্রলীগ নেতা। এ নিয়ে দুজনের কথোপকথনে পুরো চিত্র উঠে আসে। মাদককারবারি সাঈদা বেগম বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

টঙ্গী কলেজ শাখা ছাত্ররীগের সভাপতি কাজী মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের কমিটি অনেক আগেই মেয়াদউত্তীর্ণ হয়েছে। এছাড়া তার মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি জানা নেই।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, তার বিরুদ্ধে একটি কারখানার ঝুট মালামাল নিয়ে দন্ধের একটি অভিযোগ রয়েছে। সে যেহেতু কলেজের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তাই নানা অনুষ্ঠানে গেলে পুলিশের সঙ্গে তার সাক্ষাত হয়। তবে পুলিশের সঙ্গে সখ্যতা করে মাদক ব্যবসা করার বিষয়টি সত্য নয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা রেজাউল করিম মোবাইলের কথোপকথনটির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কথোপকথনটি প্রায় ৬ মাস আগের। একটি পক্ষ নতুন করে এইসব ছড়িয়েছে। ভুলতো মানুষেরই হয় আমি হজ্জ করে আসার পর থেকে নিজেকে শুধরে নিয়েছি।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) নতুন কমিশনার হিসেবে যোগ দিয়েছেন খন্দকার লুৎফুল কবির বলেন, ছাত্রলীগ নেতার মাদক ব্যবসার ফোনালাপের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। এবিষয়ে বিস্তারিত জানা এবং তথ্য সংগ্রহ করার জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 cbctvbd (cable bangla channel)
Developed By : Porosh Soft