দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যয় বাড়ছে সরকারের

জাতীয়

সিবিসি নিউজ ডেস্কঃ চলতি বছরে একুশ শতাব্দীর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বন্যার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। বাড়ছে নানা রকম রোগব্যাধী। নদী ভাঙন বাড়ছে, কমছে নদ-নদীর নাব্যতা। ঘন ঘন সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের হানা। ভূমিকম্পেরও ঝুঁকিও রয়েছে অতি মাত্রায়। এবার দিনের পর দিন সাগরের পানির নিচে ছিল উপকূলীয় বিভিন্ন অঞ্চল। বাড়ছে লবণাক্ততা। বেড়েছে বৃষ্টিপাতের অনিয়মি। বজ্রপাতও বেশি হচ্ছে। তাপমাত্রা বাড়াসহ নানান প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত এ জনপদ। এসব দুর্যোগে ঘরবাড়ি হারিয়ে উদ্বাস্তু হচ্ছে, রাস্তাঘাট বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি হচ্ছে, ফসল নষ্ট হচ্ছে, মৃত্যুসহ নানামুখী বিপদে বাংলার মানুষ। সেইসাথে প্রাকৃতিক দুর্যোগের এসব প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের ব্যয়ও বাড়ছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদন দিচ্ছে। তার মধ্যে গত ৩ থেকে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিনটি একনেক সভায় মোট চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও এর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় এই চার প্রকল্পে সরকার খরচ করবে মোট ৮ হাজার ৫৯৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। যার পুরো অর্থ বহন করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্যমতে, সর্বশেষ তিনটির মধ্যে ৩ নভেম্বরের একনেকে সভায় ‘যমুনা নদীর ডানতীর ভাঙন থেকে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলাধীন সিংড়াবাড়ী, পাটাগ্রাম ও বাঐখোলা এলাকা সংরক্ষণ’ প্রকল্পে ৫৬০ কোটি ৭ লাখ টাকা। ১৭ নভেম্বর একনেকে ‘যমুনা নদীর ডানতীরের ভাঙন হতে গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলাধীন কাতলামারী ও সাঘাটা উপজেলাধীন গোবিন্দি এবং হলদিয়া এলাকা রক্ষা’ প্রকল্পে ৭৯৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা এবং ‘ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন’ প্রকল্প বাস্তবায়নে ৫ হাজার ৯০৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ নভেম্বর একনেক সভায় জলবায়ু উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের জন্য ‘খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ’ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে, এতে খরচ হবে ১ হাজার ৩৩৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *