1. admin@cbctvbd.com : admin :
  2. cbctvbd@gmail.com : cbc tv : cbc tv
রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দুর্ভোগের শেষ নেই যাত্রীদের

সিবিসি নিউজ ডেস্কঃ
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০

ফখরুল ইসলাম ফাহিম টঙ্গী গাজীপুর প্রতিনিধি:- ঢাকার বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত যাত্রাপথ নিরবিচ্ছিন্ন করতে নির্মাণ করা হচ্ছে দেশের প্রথম বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প।

২০১২ সালে প্রকল্পটি শুরু হয়ে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু এখনো তা হয়নি। প্রকল্পের সময় বাড়ানো হয়েছে তিন দফা। দীর্ঘ সময় ধরে নির্মাণ কাজ চলার কারণে টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কে বেড়েছে যানজট, বেড়েছে জনদুর্ভোগ। পুরোনো পিচঢালা সড়ক ভেঙ্গে নতুন প্রকল্পের কাজ চলার কারনে ছোট-বড় গর্তের তৈরি হয়েছে। সেগুলো ভরাট করা হয়েছে ইট-সুরকি ফেলেছে। যানবাহনের চাপে সেই জোড়াতালি উঠে গেছে।

বিআরটি প্রকল্পের কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘সঠিক পরিকল্পনার কারনে তারা কাজ করতে পারছে না। তিন-চার বছর হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কও তারা নির্মান করতে পারেনি। যার কারনে বৃষ্টিতে কাদা-মাটি আর শুস্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে নগরবাসীর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’ প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান,

গাজীপুর থেকে রাজধানীর বিমানবন্দর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কে নিরবিচ্ছিন্ন যাতায়াত করার জন্য দেশের প্রথম বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প শুরু করা হয় ২০১২ সালে। ওই সময় এই প্রকল্পের নির্মান ব্যায় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা।

প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথাছিলো ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে। পরে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তখন প্রকল্পের ব্যয় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৪ কোটি ৮২ লাখ ১৪ টাকা। এরপর আরেক দফা প্রকল্প কাজের সময় বাড়ানো হয়। ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নতুন সময় নির্ধারণের পর খরচ ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

এরপর করোনার কারনে আবারো সময় বৃদ্ধি হয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে ২০২২ সালের জুন মাসে। গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকা পর্যন্ত ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা থেকে উত্তরার আব্দুল্লাহপুর পার হলেই টঙ্গী ব্রীজ। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুর্ভোগটাও শুরু হয়েছে ঢাকার হাউজ বিল্ডিং এলাকা থেকে। সেখানে চলছে বিআরটি প্রকল্পের বিশাল কর্মযজ্ঞ।

নির্মান কাজ, সড়কে খুঁড়াখুড়ির কাজ দেখলেই বুঝা যাচ্ছে এতো বড় কাজের কোন পরিকল্পনা নেই বললেই চলে। এই বিশাল কাজের সময় যাতে মহাসড়কে যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে তার সঠিক ব্যবস্থা করা। কিন্তুবাস্তবে তার কোনো দেখা নেই। টঙ্গী

আহসান উল্যাহ মাস্টার ষ্টেডিয়াম থেকে শুরু করে ষ্টেশন রোড পর্যন্ত একই অবস্থা। যেখানে সেখানে ভাঙ্গাচুরা রয়েছে খানাখন্দ। ষ্টেশন রোড থেকে চেরাগআলী পর্যন্ত কিছুটা ভালো অবস্থা। গাজীপুরায় দেখা যায়, খুড়াখুড়ি করে পিলার নির্মান করা হয়েছে সড়কের পাশেই চলছে খুড়াখুড়ি। যার কারনে সেখানে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এই বিধ্বস্ত সড়ক দিয়ে যানবাহনগুলো ৫-১০ গজ যাচ্ছে আর দু-তিন মিনিট থামছে, আবার একটু এগোচ্ছে—এভাবেই ধুঁকে ধুঁকে পাড়ি দিচ্ছে এই ১২ কিলোমিটার।

সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা এবং বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত যানজট থাকে মারাত্মক পর্যায়ে। গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি-ধান-ইক্ষু গবেষণার জাতীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক, কর্মকর্তা, কর্মাচারীদের অনেকে যাতায়াত করেন সকালে-বিকেলে। এ ছাড়া টঙ্গী থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে গড়ে উঠেছে বহু শিল্পকারখানা। এসব কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদেরও অনেকে এই সড়কের নিয়মিত যাত্রী। কোনরকম নিরাপত্তা বেষ্টনি ছাড়াই চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় খুড়াখুড়ি করা হচ্ছে। এর পাশ দিয়ে ঝুকি নিয়ে যানবাহন ও মানুষও চলাচল করছে। এতে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।

গাজীপুর সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুদ্দিন বলেন, ‘ আমি নিজেও প্রতিদিন ধুলাবালির মধ্যে ওই সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করছি। মহাসড়কের ওই কাজটি চলছে বিআরটি প্রকল্পের নিয়ন্ত্রনে তাই এর দেখভালের দায়িত্ব তাদের। তবে প্রকল্প কর্মকর্তাদের সড়কের যে অংশ দিয়ে যানবাহন চলছে সেটি চলার উপযোগি এবং ধুলাবালির জন্য পানি দিতে বলা হয়েছে।,

বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী (পিএম-১) মো. কাউসার হামিদ বলেন, ‘এতো বড় কাজের জন্য বিকল্প পথ তৈরি করা প্রয়োজন হয়। কিন্তু আশপাশে বিকল্প সড়ক তৈরির কোনো জায়গা নেই তাই কিছুটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সড়কে প্রতিদিনই পানি ছিটানো হচ্ছে কিন্তু এক ঘন্টার মধ্যে সড়কটি আবার শুকিয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। পানি দেওয়ার গাড়ি বৃদ্ধি করে দিনে কয়েক দফা পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 cbctvbd (cable bangla channel)
Developed By : Porosh Soft