মাইন্ড এইড হাসপাতালে মানসিক চিকিৎসার নামে চলতো নির্যাতন, ছিলেন না কোনো চিকিৎসকও

জাতীয়

সিবিসি নিউজ ডেস্কঃ  মানসিক চিকিৎসার নামে এএসপি আনিসুলকে হাসপাতালের মেঝেতে ফেলে বেধড়ক পেটায় প্রশিক্ষণহীন ওয়ার্ড বয়, ক্লিনারসহ ৬ কর্মচারী। এ সময় কোন ডাক্তারও ছিলেন না। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, অনুমোদনহীন হাসপাতালটির বিরুদ্ধে সব ধরনের অনুসন্ধান করছে তারা।

 

মানসিক চিকিৎসার নামে উল্টো প্রাণ কেড়ে নেবার এমন ঘটনা নজিরবিহীন। রাজধানীর একটি মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসার নামে কর্মচারীদের মারধরে প্রাণ গেল এএসপি আনিসুল করিমের। সিসিটিভির ছবিতে স্পষ্ট হয়ে নির্যাতনের চিত্র। এ ঘটনায় হত্যা মামলায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপকসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মাইন্ড এইড হাসপাতালে দুই রাঁধুনিও দাঁড়িয়ে দেখেছিলেন সে ঘটনা। জানান, মারধরের পর ঘটনাস্থলে মারা যান আনিসুল করিম। বলেন, যখন রোগীটাকে নিয়ে আসল তখন তিনি নিজেই হেঁটে এসেছেন। পরে এই জায়গার ভেতর ম্যানেজার সাহেবও ছিলেন। রোগীটার উপর অনেক অত্যাচার হয়েছে।

 

হাসপাতালটিতে মাঝেমধ্যে রোগীদের নিয়ে এসে নির্যাতন করা হতো বলেও জানান এই কর্মী।

এদিকে হাসপাতালটি পর্যবেক্ষণ করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মকর্তারা। তারা জানান দীর্ঘদিন ধরে কোন অনুমতি না নিয়েই চলছিল হাসপাতালটি। অবৈধভাবে চলা এ হাসপাতালে কোন ডাক্তার ছিল না উল্লেখ করে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্মকর্তারা বলেন, হাসপাতাল চালানোর মতো যেসব কাগজপত্র, সুবিধা, জনবল- কিছুই ছিল না, এজন্য মার্চ মাসে তাদের আবেদনকে আমরা স্থগিত করেছি।

রাজধানীর শ্যামলীতে তেজগাঁও জোনের উপপুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তেজগাঁও জোনের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, হাসপাতালের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ হাসপাতালের সাথে সরকারি হাসপাতালের কেউ যদি জড়িত থাকে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

মানসিক সমস্যায় ভুগে রাজধানীর আদাবরে মাইন্ড এইড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার আনিসুল করিম।সোমবার সকালে ভর্তির পর কয়েক মিনিটের মধ্যেই মারা যান তিনি। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় কয়েকজন আনিসুল করিমকে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার একটি রুমে ঢুকিয়ে মারধর করেন কয়েকজন কর্মচারী। এরপরই মারা যান তিনি। ঘটনার পর ওই দিন রাতে আদাবর থানার নিহতের বাবা মামলা করলে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *